ভৌগোলিক অবস্থান :
৩৭৩.৪২ বর্গ কি: মি: আয়তন বিশিষ্ট শৈলকুপা উপজেলা উত্তরে খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ সদর, মাগুরা সদর এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলা। পূর্বে পাংশা এবং শ্রীপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে কুষ্টিয়া সদর এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।
প্রধান নদ-নদী :
প্রধান নদীর মধ্যে রয়েছে গড়াই, কুমার ও ডাকুয়া।
শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা :
শৈলকূপা শহর ৯টি ওয়ার্ড ও ২৪টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। শহরের আয়তন ২০.৯৩ বর্গ কি: মি:।
শহরের মোট জনসংখ্যা ৩১৭৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ৫১.৯৮% এবং মহিলা ৪৮.০১%। প্রতি বর্গ কি: মি: এ জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৫১১। শহরের জনগণের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৩২.৪%।
প্রশাসন :
১৯৮৩ সালে শৈলকুপা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। ১টি পৌরসভা, ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৮১টি মৌজা এবং ২৫৮টি গ্রাম নিয়ে উপজেলাটি গঠিত।
স্থাপত্য ঐতিহ্য ও পুরার্কীতি :
শৈলকূপা শাহী মসজিদ (১৫১৯-১৫৩১), হরিহর গড় (হাকিমপুর) এবং রাম গোপাল মন্দির (সেন আমল)।
ঐতিহাসিক ঘটনা :
কামান্ন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স্থানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে ২১ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন :
কামান্না গ্রামে কয়েকটি কবর এবং করিবপুরে দুইটি শহীদ স্মৃতি সৌধ রয়েছে।
জনসংখ্যা :
উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৯৩৩.৪১। এর মধ্যে পুরুষ ৫১.৪৩%, মহিলা ৪৮.৫৭%, মুসলমান ৮৫%, হিন্দু ১৩% এবং অন্যান্য ২%।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান :
মসজিদ ৩১২টি ও মন্দির ১৬১টি। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে শাহী মসজিদ এবং রামগোপাল মন্দির।
সাক্ষরতা :
গড় সাক্ষরতা ২৬.৩%। এর মধ্যে পুরুষ ৩২.২% এবং মহিলা ২০%।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান :
কলেজ ৫টি, হাইস্কুল ৩৯টি, জুনিয়র হাইস্কুল ১০টি, মাদ্রাসা ৩৬টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯০টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৬টি, স্যাটেলাইট স্কুল ৩টি এবং স্বল্প খরচের প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১টি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শৈলকুপা পাইলট হাইস্কুল (১৮৯৩)।
সাংস্কৃতিক সংগঠন :
পল্লী ক্লাব ৪৫টি, গণগ্রন্থাগার ২টি, সিনেমা হল ২টি এবং মহিলা সংগঠন ১টি।
প্রধান পেশা :
কৃষি ৫৩.৬৬%, কৃষি শ্রমিক ১৬.৬৮%, মজুরী শ্রমিক ২.৩০%, ব্যবসা বাণিজ্য ১২.২৩%, চাকুরী ৩.৫২% এবং অন্যান্য ১১.৬১%।
ভূমির ব্যবহার :
আবাদযোগ্য মোট জমির পরিমান ২৯৭৩০.০৬ হেক্টর এবং পতিত জমির পরিমান ১৫২৮৮.৪৫ হেক্টর। একক ফসল ১৯.১৮%, দ্বিফসল ৫৭.২৯% এবং ত্রিফসলী জমি ২৩.৫৩%। সেচের আওতায় জমি ৫৩.১২%।
ভূমি নিয়ন্ত্রণ :
চাষীদের মধ্যে ০.৭৭% ভূমিহীন, ২১% ক্ষুদ্র, ৬২.৩২% মাঝারী এবং ১৫.৯১ ধনী। মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমির পরিমান ০.১২ হেক্টর।
প্রধান ফসল :
ধান, গম, পান, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন এবং মরিচ।
বিলুপ্ত বা প্রায় বিলুপ্ত ফসল :
নীল, তিসি, তিল, চীনা, খেসারি এবং অহরহ।
প্রধান ফল :
আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে ও নারিকেল।
যোগাযোগ সুবিধা :
সড়ক পাকা ৭৫ কি: মি, আধাপাকা ৯২ কি: মি: এবং কাঁচা রাস্তা ৫৪৫ কি: মি:।
ঐতিহ্যবাহী পরিবহন :
পালকী (বিলুপ্ত), ঘোড়ার গাড়ী ও গরুর গাড়ী (প্রায় বিলুপ্ত) এবং নৌকা।
কলকারখানা :
বরফ কারখানা ৪৬টি, চাউলের কল ৬৯টি, করাত কল ৫টি এবং ওয়েল্ডিং ২২টি।
কুটির শিল্প :
তাঁত ২২টি, বাঁশ এবং বেতের কাজ ১৬৯টি, স্বর্ণকার ৩৫টি, কর্মকর ২১টি, কুম্ভকার ৩৪২টি, দর্জি ১৭৫টি এবং কাঠের কাজ ১২৫টি।
হাট-বাজার ও মেলা :
হাট-বাজার মোট ৩০টি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শৈলকূপা বাজার ত্রিবেনী, দিকনগর, নিতাইনন্দপুর, ফুলহারী হাট ২টি। মেলা ১টি।
প্রধান রপ্তানী :
পেঁয়াজ, রসুন, কলা এবং বেগুন।
এনজিও তৎপরতা :
তৎপরতা চালাচ্ছে এমন গুরুত্বপূর্ণ এনজিও গুলো হচ্ছে ব্র্যাক, আশা, দিশা এবং ফোকাস।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র :
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি এবং পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১৪টি।